মানবাধিকার এমনই এক বিষয় যার গুরুত্ব অনেক বেশি। যার সীমা অনেকদূর বিস্তৃত। কিন্তু প্রশ্ন চলেই আসে যে মানুষ কি আদৌ তার মানবাধিকার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল! আজও বহু মানুষ আছেন যারা এবিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র সচেতন নয় এবং তারা জানেইনা যে তাদের অধিকার ক্ষুন্ন হলে তারা কোথায় সেই অধিকার আদায়ের প্রশ্ন রাখবে! এটিই হলো এক চরম দুর্বিষহের বিষয়। বিভিন্ন আইন, প্রস্তাব আছে যা মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রয়েছে। কিন্তু সেগুলি সম্পর্কে যদি মানুষ সচেতনই না থাকে তাহলে তার অধিকার সুরক্ষিত হবে কিভাবে এবং কোন পন্থায়? এটি সত্যি এক বড়ো প্রশ্ন! এছাড়াও এমন অনেক আইন আছে যা মানুষের ন্যায়ের জন্য তৈরি হয়েছে কিন্তু অনেকেই জানে না যে কিভাবে সেই আইনের সুবিধা তারা পেতে পারে। মানুষের মধ্যে এখনো অনেক বিষয় নিয়ে সচেতনতার অভাব আছে। এসব বিষয় নিয়ে যদি মানুষ আজ না ভাবে তাহলে আর কবে ভাববে! শুধু আইন থাকলেই ত হবেনা, সেই আইনের সুবিধা এবং মানবাধিকারের সুবিধার্থের আইন গুলো কিভাবে মানুষ কোথায় পাবে সেসব সম্পর্কেও মানুষকে ওয়াকিবহাল হতে হবে। সবাইকে এটি মনে রাখতে হবে যে "মানবাধিকার" মানুষের জন্মগত অধিকার এবং এটিই ভোগ করার অধিকার সবারই আছে। কোনো সমাজকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে গেলে সবার আগে যা প্রয়োজন তা হল "আইনিব্যাবস্থা ও সুরক্ষা"। মানবাধিকারেরও আইন আছে। এই মানবাধিকার আইন যেমন আছে তেমনি এই আইনের বিচারের সুবিধা মানুষ কিভাবে কোথায় পাবে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হতে হবে। আরেকটি বিষয়, মানুষেরও কিন্তু সমাজের প্রতি অনেক কর্তব্য আছে এবং সেগুলি পালন করাও মানুষের উচিৎ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মানবাধিকার এবং কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। তাইতো প্রত্যেকেরই উচিৎ আইন-শৃঙ্খলা পালন করা, আইনের মর্যাদা রাখা, আইনের অপব্যবহার না করা। আইন তৈরি হয় মানুষের সুবিধার্থে। সেই আইন যেনো মানুষকে সেই সুবিধা দিতে পারে সেটি যেমন একটি বিষয় ঠিক সেরকমই মানুষও যেন সেই আইনের মান রক্ষা করতে পারে সেটিও কিন্তু মানুষের কর্তব্য। কর্তব্য ব্যাতিত সমাজ কখনোই সুষ্ঠুভাবে এগোতে পারেনা। মানবাধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তেমন এটি গভীর ভাবে জানতে হলে মানুষকে এর বিষয় নিয়ে যেমন বিস্তারিত জানতে হবে তেমনি এর গুরুত্বকে আরও মানুষের মধ্যে বার্তা সমেত ছড়িয়েও দিতে হবে। যত এর ধারণা মানুষের মধ্যে বিস্তৃত হবে তত এর গুরুত্বের ধারণাও তত শীঘ্রই মানুষের জীবনে এসে উপস্থিত হবে।